রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২০:২৬
বিশ্বব্যাপী জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা আল-মোস্তফার শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব

ইরানের আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আব্বাসি আমরা মানব ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছি। সত্য ও অসত্যের পক্ষগুলোর মধ্যকার সংঘাত আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আব্বাসি ইসলামী ইতিহাস, সীরাত ও সভ্যতা বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল শহীদের, বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির মধ্যেও আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর উদ্বেগ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল এবং এর শিক্ষার্থীরা দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আলেম ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমাবেশ ও মওকিবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমও চালিয়ে গেছেন। ফলে জ্ঞান ও শিক্ষার এই কাফেলা একদিনের জন্যও থেমে যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও মানসম্মতভাবে এগিয়ে যাবে।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আব্বাসি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল পর্যায় অতিক্রম করছে। মানবজাতি সেই অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার প্রতিশ্রুতি মহান আল্লাহ ও তাঁর নবীগণ দিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস, এই পথ শেষ পর্যন্ত তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছবেই।

ইতিহাসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ভবিষ্যৎ ইতিহাস সৎকর্মশীলদের অধিকারভুক্ত হবে। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে দৃঢ়বিশ্বাসী, সে কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা হারায় না এবং বিশ্বাস রাখে যে চূড়ান্ত বিজয় ও আল্লাহর সাহায্য সত্যের অনুসারীদের জন্যই নির্ধারিত।

তিনি বলেন, আমরা যত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, বিশ্বের ঘটনাবলির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতাও তত বাড়ছে। তাই বর্তমান সময়কে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা কোনো অতিরঞ্জন নয়; বরং এটি একটি বাস্তবতা।

বিশ্বের সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, সত্য ও অসত্য, আল্লাহর অনুসারী ও শয়তানের দল এবং সত্যের অনুসারী ও তাগুতের বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্পষ্ট। বিভিন্ন জাতির মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সচেতনতা বেড়ে যাওয়ায় এই সংঘাতের প্রভাবও বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সংঘটিত এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা ভবিষ্যৎ ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রাখছে।

অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনি মুজাহিদদের অর্জিত সাফল্য ও বিজয় ভবিষ্যৎ ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রাখবে। আমাদের ও আপনাদের হাত ধরেই মানবজাতির ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে, যা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সত্যের কেন্দ্রের বর্তমান বিরোধ কেবল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক বিষয় নয়; এটি সত্য ও অসত্যের মধ্যকার একটি মৌলিক সংঘাত।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা ও আত্মসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আব্বাসি বলেন, আমাদের জানতে হবে আমরা ইতিহাসের কোন পর্যায়ে অবস্থান করছি এবং আমাদের ওপর কী দায়িত্ব রয়েছে। আজ আমরা এমন একটি ঔপনিবেশিক ও আধিপত্যবাদী শক্তির মুখোমুখি, যার বিশ্বাস ও সংস্কৃতি ঐশী মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন, নৈতিকতাবিবর্জিত এবং বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার উপেক্ষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ধারার বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথে থাকার সুযোগ পাওয়াও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুগ্রহ—এমনকি চূড়ান্ত বিজয় দেখার মতো দীর্ঘ জীবন আমাদের নাও হতে পারে।

আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ঐশী জ্ঞান অর্জন এবং তা বিশ্বের বিভিন্ন জাতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে পথ শিক্ষার্থীরা বেছে নিয়েছেন, তা সত্য ও অসত্যের মধ্যকার বৃহত্তর সংগ্রামেরই অংশ।

তিনি বলেন, কোনো জাতির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে তার নিজস্ব পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সত্তাকে দুর্বল বা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা আল-মোস্তফার শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আর জ্ঞান অর্জন ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এই পরিচয় রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha